name
প্রথম পাতা মনের ঘুড়ি  

 

 

 

সুচেতা মিশ্র

আজই সেই দিন

 

প্রিয় দিন রোজ আসে না, আসতো কখনও। সেই পুরোনো এক প্রিয় দিন আজ। বিহান ভরে ছিল হ্লুদ বার্তায়, সাথে ছলকে ওঠা সিম-সবুজের উজ্জ্বল বাঙময়তা। এই সব ছাপিয়ে পঞ্চমীতে পা। ছোট ছোট দোলাচল ঝেড়ে ফেলে আজই হাঁকলো পাড় ভাঙা নদী। ঢেউ  ঢেউ ঢেউ। জনসমুদ্রে ঢেউ। আমরা চলেছি মিছিলে। তুমি, আমি ও তোমরা। বাতাস ফিসফাস ঝেড়ে ফেলে সোচ্চার। জটিল কোন বিষয় নয়। ওরা বলছে আমাদের কথা। তুমিও বলছো আমাদের কথা। আমরাও বলছি আমাদের কথা।  তাই উত্তাল ঢেউ দিকে দিকে। দলে দলে চলছি আমরা মুক্তির প্রয়াসে। সমস্ত বালখিল্য অহঙ্কার চুরমার করে চলেছি। রঙীন বুদবুদের মেখলা খুলে ফেলেছি। হাঁটছি পাশাপাশি আমরা, দলে দলে।

 

গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েছে কজন। কয়েকটি  অবয়ব হত্যা করেছে কজনকে নিজেদের দারীদ্র্য ঘুচাবে বলে। পুড়িয়ে ফেলেছে সমস্ত প্রতিরোধ-প্রতিবাদ। ঝলসানো শান্তির পতাকা উপরে নিয়েছে কেউ। ভয়ার্ত তুমি ও আমি এবং তোমরা জীবন্ত কংকাল। সন্ত্রাস নামের এক অতি দরীদ্র মুখোশ খুলে ফেলেছে। দলিল, দস্তাবেজ হাটকে তুলে ধরেছে পোকায় খাওয়া সংবিধান। নেপথালিনের গন্ধে ছুটে আসছে একদল হায়েনা যারা গণতন্ত্র ভালবেসে মুখোমুখি বসেছে সন্ত্রাসের। পরিত্যক্ত স্বরাজি ঘুলঘুলির ফাঁকে চোখ রেখে কেঁপে কেঁপে উঠছে মৃত্যুভয়ে। তার সখা জ্বলছে লাশ হয়ে ক'হাত দূরে।

 

অভাবি ঘরের  দুটি লাল শাড়ি কাল ছিঁড়ে গেছে। সূতো সরে গেছিলো বহু আগে কালো হাঁটুর লোলুপতায়। ফলার ঘায়ে ছিঁড়েখুড়ে গিয়েছিল অর্গল। উলটে পড়েছিল তুলসীপ্রদীপ। আজ বাকী সূতো সরতে সরতে ছিঁড়ে গেল সমস্ত শাড়ি। দুটি শাড়ি। ক্ষিধে পেলে এই সব ছিঁড়ে যায়। রাহুগ্রস্ত বধির মন টিকে যায়, শিখে যায় ছলা কলা। নয়নাভিরাম আভরণ। ওমর খৈয়ামের সুরে ঝুম ঝুম বাজে রেশমি বিকিকিনি। হাসিতে ক্ষতিপূরণ। অথচ রাতের শেষে পাখী ডাকলে ছিটকে যায় রঙীন রেশম। প্রতিশোধের আগুনে জ্বালিয়ে দিতে চায় দলিল ও কলম। রাইফেলে হাত রাখতে শিখেছে সে, যেমন করে দামুর ছোটবোন।

 

গেরস্ত ঘরের তুলসী মঞ্চে প্রদীপ জ্বলেনা। ভোরের আজান ও বন্ধ। কুঁকড়ে যাওয়া শরীর ও ঝুলে যাওয়া সারিবদ্ধ হাত বারুদের শব্দে চমকে চমকে ওঠে। প্রতীক্ষায় থাকে, প্রার্থনা জানায় গর্ভিনীর কাছে। অনাগতের মঙ্গল আকাঙ্খায় যে এখন হাতে আগুন নিয়েছে। শপথে আছে মন্দির-মাজারের ভিড় থেকে রক্ষা করবে তাকে। নিঃশঙ্ক আস্থায় নিয়তির সাথে পাঞ্জা খেলতে শেখাবে। বারবার শেখাবে আগুন খেয়ে সোজা দাঁড়াতে।