![]() |
||
|---|---|---|
| প্রথম পাতা | মনের ঘুড়ি | |
|
স্তব্ধতায় রহস্য নেই --- আসলে কী ডান্স ফ্লোরে এক পা তুলেই ছিলাম। তুমি শুধু হাত ধরে ঘুরিয়ে দিলে। বুভুক্ষার কোনো অন্তরাল ছিলনা, থাকেনা। ছিল দক্ষছাঁদ মোলায়েম। ঊষসী আলোয় যেমন অনাবিল। পূঞ্জ পূঞ্জ শব্দের খেলায় টইটম্বুর। ছলকে যাওয়ার আগে স্বাদ নেওয়া, নিজেকে ফিরে দেখাও। সত্যিকে উপেক্ষা করা কী সহজ? বলতেই পারি, মিলনডম্বর হাতছানি দিচ্ছিল বারবার। ভাসিয়ে দিতে চেয়েছিলাম জংগল, পাহাড়, লোকবসতি ঐক্যনিনাদে। কিন্তু ভুলতে পারোনি সেই বাজুবন্ধ যাকে শোকগাথা বললেও ভুল হবেনা কোনও। উথালপাথাল ঢেউ তুলতেই থাকে তোমার অস্থিমজ্জায়। দীর্ঘ-দীর্ঘ বছরের বনবাস শেষ হয়ে গেলেও রেশ তো থেকেই যায়। দিনভর পরস্পরকে ছুঁতে-চাওয়া খেলার নেশা শেষ করে দেওয়া হাতিভারী। বনবাসই বা বলছি কেন, বরং মনোবাস বলা যায় একে, যদিও শেষরক্ষা হোলনা, হয়না এভাবে। গলতি কারো নয় মিতা, এ বড় বিষম সময় আসোলেই। --- এই যে খুলে গেলাম, এর ভেতরের সত্যি জানাও জরুরী। কোনো প্রশ্রয় কী ছিলনা! একসাথে বৃদ্ধ ভাবনায় ধোঁওয়াচুমুক কি ঝড় তোলেনি, বলেনি কি নীরবছিন্ন সেই সুখ ওই দুইপেয়ালায়! ডাগর অন্ধকার উপেক্ষা করে নীলাম্বরি আঁচলের এক ঝলক তোমারই নির্মাণ, ছিলনা! স্তব্ধপ্রহরে ঝুলে থাকা গলাচাঁদ ঝরে ঝরে পড়লে উদ্ভাহু যে হবই সেকি অজানা ছিল? দুঃখবিহীণ দুঃখের বিলাস তিমির বিনাশী নয়, জানা কথা। হাতে অন্ধকার নিয়ে পথে বেড়োলে পথ চলার সহজ রাস্তাও ধরা ছোঁওয়ার বাইরেই থাকে, থাকেনা? --- আপাততঃ স্তব্ধতায়। পার ভাঙছে এখন স্তব্ধ প্রহর, ফিরবো অবশ্যই। পরাস্ত নিয়মে জড়িয়ে পরে অঙ্গীকারও অস্বীকার-বুদবুদে। সেইরকমই ঝপাঝপ নিভে যাওয়া জ্বলে যাওয়া। ভালো! দ্বিধা থেকেই উপেক্ষা, নামাবলী নিয়মের ষড়যন্ত্র রাঙিয়ে যাচ্ছে একের পর এক এক্কাদোক্কা ঘটনামালা। হঠাৎ রোদ্দুরের গায়ে সুইচ্ অন্-অফ্ করলে হলুদ মাথাধরাখয়েরী কিম্বা হিংসেসবুজ হয়ে ওঠে যেমন পরপর। বেরাদারের হাতে সঁপে দেওয়ায় ভাল তখন! নিশ্চঞ্চল বুকে ঝাঁক ঝাঁক সমুদ্র-চিল আছাড়ি -পিছাড়ি লেলিহান ভাবনায় তবু। অভিসন্ধির গেরুয়া প্রহর খুলে খুলে যায় জানলার ওপরে রাখা পরী অ্যাশট্রেতে, পুড়ে পরে আছে যেখানে ধূলো ধূলো সত্যকাম। হাত রাখলাম কাঁধের ওপর, বুলিয়ে দিচ্ছি পেকে ওঠা ধান্যশরীরে একটি দুটী আঙুল। বেহালা তোল, উৎসব শেষে মুখথুবড়ে পরে আছে রত্নাবলী কল্পদ্রুম। কোনো রঙ নেই এখন। নিভৃতে শর্বরী মীর। --- রং ছাড়া বেঁচে আছি। সেই সব রঙ যা ধন্ধে থাকেনা। ধন্ধের কারনেই রং ছাড়তে হলো, হয় এরকম কত। দুন্দুভী ফুলে যে পরিমান মধু থাকে সেটুকু চেটে নিতেই এই বিরহ কফি কাপ। তবু মানতে পারিনা। টং টং বাজে বর্তনী ভালবাসা। স্বেচ্ছাচারী ছোটে মুগ্ধ দিওয়ানার দিকে। লবঙ্গতেজে ঢেকে যাওয়া ক্ষয়া কুড়ুনি ব্যাথার মত এই মুগ্ধতা। হলুদ বালিসে এখন মাথা রেখেছি। জানলার বাইরে তাকালে আকাশ চোখে পড়ে। ভরে নিচ্ছি নীল সুগন্ধী বুকভরে। সময় আছে, অ্যান্টিক মভ্ অস্বীকার করতেই পারি অনায়াসে। জাদুগরী বাঁশি বাজছেই বাজছেই বাজছেই।
লাট্টু পঁচিশতম জন্মদিনে এসে আমার মনে হয়, যদি পঞ্চাশ বছর বাঁচি, তবে অর্ধেক পথ এরই মাঝে পার হয়ে এসেছি। সতেরতম জন্মদিনে ঠিক এরকম একটা ভাবনার উদয় হয়েছিল মনে। ধারণা হচ্ছে, সেদিনও সম্ভবত আজকের মতই কিছু খরচ না করা অলস সময় জমে গিয়েছিল। শীতের সকালে খুব আরাম নিয়ে রোদ পোহানোর মত করে আদুরে ভঙ্গিতে আমি তাই ভাবনার লাটিম চরিয়ে বেড়াই। মনে পড়তে থাকে- সে দিনেও আমার এমনি মনে হয়েছিল যে সতের বছর পার হয়ে এসেছি! তো, বলছিলাম, সতেরতম জন্মদিনটির কথা। সেদিন খানিকটা থমকে পেছনে তাকিয়েছিলাম, আর ঠিক আট বছর বাদে আজ আবার সময় হলো তাকানোর। সতের মনে আছে, তবে আঠারো নেই একদমই। শহুরে জীবনের কল ঘুরিয়ে মাঝে মাঝেই এরকম শাওয়ারে ভিজে নিতে ভাল লাগে, চোখ বুজে নীপবনের শান্তি খুঁজে নেবার চেষ্টা চালানো যায়। আপাতত লাটিম থেমে যায়, হাতের সুতো তাতে জড়িয়ে নিতে নিতে ভাবি- আরো বছর পঁচিশেক এরকম নবধারাজলে ভিজতে পারলে মন্দ হয় না বটে!
|
|