আমি তোমাকেই জনমত ভাববো
আমি তোমাকেই জনমত ভাবব
যদি তোমার কথায় ভেসে ওঠে লক্ষ কথা লক্ষ জনের
তোমার দৃষ্টি যদি হয় সবার দৃষ্টি
তোমার ভাললাগায় যদি ছলকে ওঠে জল সকল হ্রদের
আমি তোমাকেই জনমত ভাবব।
যদি তোমার লক্ষ্যে থাকে নিযুত মঙ্গল স্বচ্ছ সূর্য্য
পেশিতে থাকে বিজয় নাচন নিখাত উচ্ছাস
মহৎ উচ্চাভিলাস এসে যদি মেশে তোমার মোহনায়
হৃদয়ের পাটভাঙ্গা প্রেম যদি ফুটিয়ে তোলে তোমার কাব্য
আমি তোমাকেই জনমত ভাবব।
অসুস্থ শামসুর রাহমানের জন্য প্রাথর্না
যে জীবন তুমি দেখেছিলে শ’বছর ছাড়িয়ে
তোমাকে বলেছিল কালোত্তীর্ণ
সেই তুমি দেহ ছাড়ার প্রতিযোগীতায়
বাঁশের ঝাড় থেকে বাতাসের খেলা
লম্বা সূচ্যগ্র নিমেষে ছোঁয়ায় মাটিতে
সায়াহ্নে হাসি মাখা সফেদ চুলের বিন্যাস
কাব্যের প্রতিটি লাইনের মত টানটান এখনও
আমার একদিন বলতেই হবে
কতটা ব্যস্ত আমি তোমার পদচুম্বনে
কতটা নুইয়ে থাকি মাথা তোমার প্রতিমূর্তিতে
তোমাকে সামনে বসিয়ে আমার ব্যাকরণহীন আবৃত্তি
তোমার অস্থির চারপাশে টুকটুক নখ কাটার আওয়াজ
আমার আজীবনের সাধনাকে একেবারে বিমূর্ত করে দেওয়া স্পর্শ
হে কবি তোমাকে রোগমুক্ত শরীরে দাঁড়াতেই হবে শীঘ্র।
এক গ্লাস ভয় পান
প্রতিনিয়ত ভয়পূর্ণ গ্লাস নিঃশেষ করি
আঁকাবাঁকা সরীসৃপ রাস্তার মাঝে একাকী বন্ধ গাড়ি
স্রেফ বিধাতাকে ডাকার মত অখন্ড অবসর
তবু তোমাকেই স্মরি - চারপাশে ভয়ের চাদর
দুয়েকটা শোকজ, লেট বলে ফোন না ধরা বিক্ষিপ্ত শাষণ
ইঞ্জিন বুঝে গেছে মিশ্রন দুষিত ফুয়েলের
থামি রাস্তায়, নিশ্বাস ভুলি – দীর্ঘক্ষন চেয়ে রিয়ারভিউয়ে
এখনও কোনো সাইরেন নেই টহল ট্রাফিকের।
কোন নিশ্বাসবাহী নেই পাশে
নেই ভিন্ন লিঙ্গের প্ররোচণ, উদ্দীপনার সংবেদন
অগ্রন্থিত মোটরযানের ড্রাইভার নিয়ে অসাবধানী বাঁক ঘোরা
গৃহী শকুনের লাইসেন্স নিয়ে দাপানো সম্ভব নয়।
প্রতিদিন সকালে রাস্তার মোড়ে মলবাহী ট্রাক
জমে থাকা পোড়া-গলা ফেলে দেয়া সাধের স্বপ্ন
উচ্ছিস্ট কনডম বুকে নেয়
তারপরেও শেষ বিকেলের ঘরে ফেরায়
ভয়ও ফেরে পায়ে পায়ে। |