name
প্রথম পাতা কবিতা  

 

 

রুদ্র পতি

 

অন্যান্যদের কবিতা

অনির্বান পাল

পুলক গাঙ্গুলী

বিপ্লব সেনগুপ্ত

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

রংগীত মিত্র

রুদ্র পতি

শেখ নজরুল

সৈয়দ তওফিক

 

 

খেলাধুলো

বারবার লক্ষ্য করি এই ফাল্গুনে
শিশুগাছ থেকে ফুল ঝরে দুপুর বেলা
                                রাস্তার উপর;

এই ঝরাফুল পেরোলে তোমাদের পলাশের বন
সেখানে উজ্জ্বল আগুন
পলাশের গর্ভকেশরে থাকা রস শিশিরের বর্ণের মতে
যা শরতে আলতি পাতার উপর টলমল করে

জড়িয়ে ধরেছি গ্রাম
এই উষ্ণবলয়ে শিশুদের টলোমলো ধুলোমাখা হাত পা
আমি রোজ তাদের খেলা দেখি
একদিন আমার হাত পা শিশুবেলা এ ভাবেই

                                ধুলোয় ডুবে যেত
বড় হয়ে সেই হাত পা'য় এখন কৃষিজমির কাদা
বড় হয়ে সেই হাত পা'র বুকে এখন শষ্যের ধুলো;
বারবার লক্ষ্য করি এই ফাল্গুনে
ভুঁইকদম ফুটেছে খুব আমার ধানতোলা পরিত্যক্ত ক্ষেতে
এই ভুঁইকদম যত্ন করে তুলে এনে
তোমার কানে দুল করে পরিয়ে দেওয়ার খুব সখ
আর শিশুগাছ থেকে ঝড়ে পড়া শিশুফুল

                                তোমার নাকছাবি হবে
আমি পরিয়ে দেবো, গোপনে
কেউ জানবে না;
আসলে এ সবই তোমার আমার নিভৃত সখ ও খেলাধুলো।

 

হফত রাণ্ডার দেশে

'মেয়ের আমি বিয়ে দেব হফত রাণ্ডার দেশে
সেথা বাঘ বলদে চষে'
কৃষিভিত্তিক লোকায়ত গ্রামীণ জীবনে এই ছড়া

                        আমাদের মর্যাদা পেয়েছে।
পশুশ্রম আদায় করে মাটিকে ফালা ফালা করে
যদি তার উপরের ত্বককে নীচে আর নীচের ত্বককে

                                উপরে তুলতে পারি

তবে শস্যে সাফল্য আসে
সাফল্য আসে কৃষিজীবি গ্রামীণ জীবনে
এই কাজে খুব শ্রম লাগে
যে শ্রম বাঘের ঘাড়ে লাঙ্গল বেঁধে মাটিতে চারিয়ে নিতে

                                পারলে খুব লাভ
খুব লাভ মোষ ও বলদকে যদি মাটি কর্ষনের কাজে

                                        লাগানো যায়;

হফত রাণ্ডার দেশে তাই খুব শষ্য ফলে, অভাব ও দারিদ্র্য নেই
হফত রাণ্ডার দেশে কৃষকেরা জানে কীভাবে বাঘ ও বলদকে

                                               বশ মানাতে হয়
ওই দেশের কৃষকেরা জানে কীভাবে আকাশের বৃষ্টিকে

                                        তালুবন্দি করতে হয়

বড়ো হয়ে আমি স্বর্গ, মহাকাশ অথবা নগরে যেতে চাই না
যেতে চাই ওই হফত রাণ্ডার দেশে
কৃষি ও শষ্যে নিজেকে চুবিয়ে নিতে।

 

চাষার কবিতা তোমাকে

গাছের ডালে ফুলেদের জনন সম্পূর্ণ হয়
কিন্তু বংশরক্ষার জন্য মাটিকে ঝরার প্রয়োজন

                        গাছা আরো বেশি করে অনুভব করেছে

তাই সন্তান রেখে যাচ্ছে বীজে
হে প্রভূ আমি জন্মেছি মাটিতে

                        চাষাদের অজ পাড়াগাঁইয়ে

এইসব লক্ষ্য করি কাছ থেকে
কেন্দু গাছের নীচে বসে এই ফাল্গুনে

                        গাই গরু চরাই

একটু অন্যমনস্ক হলে
টের পায় সামনে পিছনে
কেন্দু ফল ঝরে ঝরে পড়ে
আমি সেই ফল অসাবধানতা ভেঙে
মুখে পুরি শাঁস খাই অমৃতের মতো মিষ্ট;
খোসা ও বীজ দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিই।

মানুষকে কাজে লাগিয়ে এই যে বীজগুলি দূরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া
বংশ বিস্তারের এই যে অসীম আকুলতা
কৃষি ও গ্রামজীবনে যা আমি কাছ থেকে দেখি
তাকে আমি কোনোদিন অসম্মান করিনি

আমাকে তুমি ভুল বুঝোনা অঞ্জনা।