১
ওরা একটা গ্রাম,
একটা মিটিং নয়
পৃথিবীটাকে ঘিরে রেখেছে।
তুমি আধুনিক আলো রোশনাই থেকে
বহু দূর অন্ধকারে জেগে, জাগিয়ে
এই সত্য ১৯শেই বুঝে নিয়েছিলে।
হিমালয়ের ঘেরাও পেরিয়ে
লড়াকু প্রতিধ্বনি বলেছিল ---
‘তোমরা ৮-৯টার সূর্যসন্ধানী
ঘেরাও ভাঙ্গো, যেখানে দাঁড়িয়ে আছো
চারপাশে ঘেরাও ভাঙ্গো’-
তুমি শুনেছিলে, অনুভবে জেনেছিলে
সেই ক্রান্তি, সমকাল।
সূর্যের আলো আর
দুর্মর অবাধ্যতাকে
ঘেরাওয়ের সাধ্যি কার?
একটা ঘেরাও ভাঙ্গতে পারলে
পর পর ঘেরাও ভাঙ্গতে
সাহসী হওয়া যায়,
জীবনের জয় ছিনে।
২
শেষের দিনটিতে
ঘেরাও ভাঙ্গার সভায়
৪৭-এও ১৯ ফিরিয়ে এনেছিলে।
সন ৭৯-র বন্দুকের লড়াই
জিতে নিলেও
ঘরের বদলে হাসপাতালের
ঠান্ডা চাতালে
মৃত্যু, পরাজয়
মেনে নিতে পেরেছ কি?
সটান শুয়ে থাকা প্রশান্ত
মুখচোরা নির্লিপ্তি ---
কবরে যাবার আগে
মাটির ঘেরাও ভাঙ্গতে
চেষ্টার কসুর ছিল কি?
যেন এখনই ‘হরিবোল’-এর
ঘেরাও ভাঙ্গতে
‘ইনকিলাব’ ঝিকিয়ে উঠবে
তোমার প্রবল মুঠিতে!
খেজুরি দিয়ে ঘেরাও নন্দীগ্রাম
মোদী দিয়ে ঘেরাও মার্ক্স
ভাঙ্গার দিনে
তোমাকে বড় প্রয়োজনে ছিল যে!
মাটি ফুঁড়ে অমোঘ এসো
যোদ্ধৃ বেশে, রেংটা মুর্মূ!
ঘেরাও ভাঙ্গার কৃত্য
এখনো যে অনেক হাঁটা পথ ---
(কৃষক নেতা রেংটা মুর্মূ স্মরণে ৬ জানুয়ারি, ২০০৮ লিখিত। কমরেড রেংটা মুর্মূ বিগত ৫ জানুয়ারি মস্তিষ্কে প্রবল রক্তক্ষরণে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে প্রয়াত হন। আদিবাসী সাঁওতাল পরিবার থেকে উঠে আসা এই অনন্য যোদ্ধা গ্রামীণ সর্বহারার প্রাণের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। নক্সালবাড়ি কৃষক আন্দোলনের মর্মবস্তু উপলব্ধিতে এনে ৭০ দশকের শেষার্দ্ধে শোষক ভুস্বামী ও রাষ্ট্রিয় সন্ত্রাসের বিরোধিতায় সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনে তিনি সফল নেতৃত্ব দেন। )
|