name
  সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা প্রথম বর্ষ | দ্বিতীয় সংখ্যা

 

  • প্রতর্ক্য
  • কবিতা
  • গল্প
  • নিবন্ধ
  • মনের ঘুড়ি
  • আমাদের কথা
  • লেখক পরিচিতি
  • মতামত
  • আলোচনা
  • লেখা পাঠান
  • বাংলায় লিখুন
  • আর্কাইভ
  • সম্পাদকীয় বার্তা

    বীক্ষণের নতুন সংখ্যা নিয়ে, দীর্ঘ-দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারো আমরা। কথা দিয়েও রাখতে না পারার অসহায়তা ঢাকতে শুধু এটুকুই বলবো লেখক ও পাঠক বন্ধু আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। প্রথম সংখ্যা প্রকাশের পর অগনিত পাঠক, লেখক ও সহৃদয় বন্ধুদের কাছ থেকে যে প্রেরণা ও উৎসাহ পেয়েছি, তাতে আমরা মুগ্ধ। অফুরান কৃতজ্ঞতা জানাই এই ছোট্ট পরিসরে।
     
    এরমধ্যে ঘটে গেছে বিভৎস অঘটন পশ্চিমবঙ্গে। কোন সুরাহা হয়নি এখনোও, চলছে কাদাছোঁড়াছুড়ি-দোষারোপ, সুধীজনের অশ্রুমোচন নিয়মমাফিক। কাঁদছে শুধু ঐ 'ওরা' – স্বজন-সর্বস্ব হারানো প্রান্তিক মানুষজন। সাম্প্রতিক ঘৃণ্য এই ঘটনার সাথে এক হয়ে গেছে বামফ্রন্টশাসিত রাজ্যসরকার ও তার কান্ডারী মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নাম। তিনি অবশ্য পাষান-শান্ত মুখে অভ্যস্ত-ক্ষমা চেয়েছেন। লালে রাঙানো হাত ধুয়ে ফেলেছেন। শিল্পায়নের অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে, জানিয়েছেন দৃঢ়ভাবে। এই উন্নয়ন রুখবে কে? আর কেনই বা? উন্নয়ন কে না চায়, অতিবড় মুর্খও চাইবে নিজের উন্নতি। আলোর অপেক্ষা কার নেই! মুখ্যমন্ত্রীতো চাইছেন তামাম পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি! পশ্চিমবঙ্গের ঘরে ঘরে অন্ধকার দূর করতে চান তিনি। ভারতবর্ষের রাজ্য-রাজনীতিতে হয়ে উঠেছেন উন্নয়ন-যাদুগর, আলোর-দিশারী। জাদুদন্ডের (পড়ুন, মারণ-দন্ড) এক ছোঁয়ায় জ্বলে উঠবে আলো, দিকে দিকে। এবং এই উন্নয়ন যেন তেন প্রকারেণ। কিন্তু শুভ-ইচ্ছায় বাদ সাধছেন অনেকেই এবং তখনই ঘটছে অঘটন। সরকারী যন্ত্র পুলিশ ও সিপিএম এর তথাকথিত ক্যাডারবাহিনীর বন্দুকের সামনে লুটিয়ে পড়ছে অসহায় মানুষ, অত্যাচারিত মহিলা ও শিশু। যেহেতু নিজেদের একমাত্র সম্বল সামান্য চাষের জমি বা মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকু উন্নয়নের ভিতে বলি দিতে তারা নারাজ। বলি হয়ে যাচ্ছেন তাই এই অসহায় কৃষকেরা নিজেরাই। বামশাসনের তিরিশ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম বিরোধীর সংখ্যা হাতে গোনা। বিরোধ বরং প্রহসণে দাঁড়িয়েছে বিপ্লব-সংস্কৃতির পীঠস্থান পশ্চিমবঙ্গে। তবু কিছু মন্দ লোকে উন্নয়ন-বিরোধীর(!) তকমা এঁটে প্রতিদিন আছেন বিরোধে – সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের বর্বর অত্যাচারের বিরুদ্ধে, অসহায় কৃষকদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে। জেগেছে শিল্প – সংস্কৃতির জগৎ, অনেককাল মুখে কুলূপ আঁটা বুদ্ধীজীবির দল নড়ে উঠেছেন। সাধারণ মানুষও সোচ্চারে পথে নেমেছেন। সংস্কৃতমনস্ক মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বামশাসনের বিরোধিতায় আছেন তারা। সরকারের তরফ থেকে নিজেদের কৃতকর্মের কৈফিয়তে ছেলে-ভুলোনো গল্পের কমতি নেই অবশ্য। তবু বিশিষ্ট জনেরা বলছেন, প্রান্তিক মানুষগুলোর মত এই মুষ্টিমেয় বিরোধীরাও বুঝতে পারছেন না বা চাইছেন না এই উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা। কেন আছেন বিরোধে, এনারা আলো চান না!
     
    ওদিকে প্রতিবেশি রাষ্ট্র বাংলাদেশে জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা। দুই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার ক্ষমতার অপব্যবহার বাংলাদেশকে যে দুর্নীতি ও অরাজকতার দিকে এগিয়ে দিয়েছিল তার বিরুদ্ধেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও জরুরি অবস্থা। এতে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে সেনাবাহিনী। একের পর এক দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিক ও ক্ষমতাবান আত্মিয়স্বজনের বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকার শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে ও বিচারের ব্যাবস্থা করেছে তাদের। সাধারণ জনসাধারণ যে এই উদ্যোগকে সর্বান্তকরণে সমর্থন জানাবে তাতে আর সন্দেহ কী? কিন্তু এর পরেও সংশয় দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। যেভাবে দুই নেত্রীর কার্যকলাপের ওপর তথাকথিত নিজস্ব-নিয়মকানুন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে তা যে সন্দেহাতীত নয় যে কোন শুভবুদ্ধির মানুষই বুঝবেন এবং সংশয়ে ভুগবেন। স্বভাবতই মনে প্রশ্ন আসে সুষ্ঠুভাবে গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরকার গঠন আদৌ হবে কি না? হলেও কবে বাস্তবায়িত হবে?
     
    এইসব ডামাডোল এর মধ্যেই চলছে জীবন নিজস্ব ভঙ্গীতে। চলতে চলতে থেমেও গেলেন কজন। বিশিষ্ট শিল্পী বিকাশ ভট্টাচার্য তাঁর অসামান্য সৃষ্টিকে আমাদের মধ্যে রেখে অসমাপ্ত ক্যানভাস-রঙ-তুলি গুটিয়ে নিলেন। আমরা হারালাম এক দুর্লভ স্রষ্টাকে। কদিন যেতে না যেতেই পাকদন্ডী ধরে নামতে নামতে একেবারেই হারিয়ে গেলেন শতবর্ষ পেরোনো আমাদের প্রিয় লীলা মজুমদার। বহুদিন তিনি স্তব্ধ হয়েছিলেন, এবার বরাবরের মতো। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে ছোটদের সাহিত্যে। বিষ্ময়কর এই সৃজন-প্রতিভার লীলা শেষ হওয়ার নয়। কখনোই পূর্ণ হবেনা এই দুই শিল্পীর স্থান বাংলার শিল্প-সাহিত্যের ইতিহাসে।
     
    তবু চলতে থাকে, থাকবে - সৃষ্টিভাবনা নতুন প্রতিভার হাত ধরে ক্রমাগত। প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হবার পর যে সংখ্যক মৌলিক রচনা আমাদের হাতে এসেছে তাতে আমরা অভিভূত। সমস্ত রচনা প্রকাশযোগ্য নয় এ কথা বলার ধৃষ্টতা নেই। তবু তার মধ্যে থেকে বেছে নিয়েই দ্বিতীয় সংখ্যা। মননশীল গল্পে, কবিতায়, নতুন ভাবনায় জমজমাট এবারের সংখ্যা, এই সাহসী ধারণায় সঙ্গী হিসেবে চাই প্রিয় পাঠক ও লেখক আপনাদের। মেজে ঘষে নেব, প্রত্যাশায় হাঁটবো পাশাপাশি এই লক্ষ্য। আবার দেখা হবে আগষ্টে।
     
    শুভেচ্ছাসহ,
     
    সুচেতা মিশ্র
    মে, ২০০৭ 


     

    banglahelp
    counter